
ডি এস টুটুল, কুষ্টিয়া: কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়নের ছত্রগাছা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। বিদ্যালয়ের একটি কক্ষ থেকে অজ্ঞান ও মুখে টেপ লাগানো অবস্থায় ষষ্ঠ শ্রেণির এক ছাত্রীকে উদ্ধার করা হয়েছে।
তথ্য ও এলাকা সূত্রে জানা যায় ১০এপ্রিল বৃহস্পতিবার , বারুইপাড়া ইউনিয়নের মির্জানগর গ্রামের বাসিন্দা মুস্তাকের মেয়ে জিম খাতুন গতকাল সকাল ৯টার দিকে বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত দশম শ্রেণির বিদায় অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যায়। অনুষ্ঠান শেষে সে বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন এবং খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।
দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর রাত প্রায় ৮টার দিকে পরিবারের সদস্যরা বিদ্যালয়ে গিয়ে পিয়ন হামিদুলের কাছে জানতে চান, মেয়েটি সেখানে আছে কি না। তবে পিয়ন বিদ্যালয়ে কেউ নেই বলে দাবি করে এবং চাবি দিতে অস্বীকৃতি জানায়। এতে এলাকাবাসীর সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
একপর্যায়ে উত্তেজিত এলাকাবাসী পিয়নের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে এবং জোরপূর্বক বিদ্যালয়ে প্রবেশ করে। পরে বিদ্যালয়ের তৃতীয় তলার একটি কক্ষে জিম খাতুনকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, এ সময় তার মুখে টেপ লাগানো ছিল।
তাৎক্ষণিকভাবে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে মিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ যোগাযোগ করা হলে মিরপুর থানা পুলিশ ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
মিরপুর থানা পুলিশের ওসি (তদন্ত) আব্দুল আজিজ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে ভুক্তভোগীর পরিবারের সঙ্গে কথা বলেন। তিনি জানান, মেডিকেল রিপোর্ট পাওয়ার পর ঘটনাটির সুষ্ঠু তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে বিদ্যালয়ের পিয়ন হামিদুলকে আটকের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। তবে মেয়েটির জ্ঞান ফেরার পরই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ঘটনাটি নিয়ে পুরো এলাকায় চরম উদ্বেগ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।